সোমবার বিকেল থেকে বাংলাদেশে তৈরি রয়্যাল এনফিল্ড মোটরসাইকেল প্রি-বুকিং
ঐতিহ্যবাহী এবং রাজকীয় ভারতীয় মোটর ব্র্যান্ডের রয়্যাল এনফিল্ড তৈরি হচ্ছে বাংলাদেশে। সোমবার দুপুরে রয়েল এনফিল্ড বাংলাদেশ নামের ফেসবুক পেজ থেকে উন্মোচিত হবে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে সংযোজিত ৩৫০ সিসির হান্টার, বুলেট, ক্লাসিক ও মিটিয়র মডেলে চারটি মোটর বাইক। বিকেল থেকে তেজগাঁও শো-রুম থেকে আগাম বায়না নেয়া শুরু করবে বাংলাদেশে রয়্যাল এনফিল্ডের একমাত্র প্রস্তুতকারক ও পরিবেশক ইফাদ মোটরস। এর ৪৫ দিনের মাথায় ঈপ্সিত মোটর বাইকটি হাতে পেতে পারেন ক্রেতারা।
বাইকগুলো কারবোরেট ইঞ্জিনের চেয়ে বেশি মাইলেজ দেয় বলে ভারতীয় বিভিন্ন টেস্ট রাইডারের ভাষ্য। তাদের মতে, লং ডিস্টেন্সে লিটারে ৩০ কিলোমিটার যাবে মোটর সাইকেলটি। সংশ্লিষ্ট সূত্রের অনুমান, চার মডেলের মধ্যে সবচেয়ে কম দাম পড়বে হান্টার মডেলের। এটি কিনতে খরচ হতে পারে ৪ লাখ টাকা। বুলেট ও ক্লাসিকের দাম থাকবে ৫ লাখের নিচে। আর সবচেয়ে দামি মিটিয়র মডেলের দাম হবে ৫ লাখ টাকার ওপর।
জানাগেছে, নন্দিত এই ব্র্যান্ডটি সরসামি আমদানি না করে দেশেই চেসিস ও নির্দিষ্ট কিছু উৎপাদন সংযোজন করেছে ইফাদ মোটরস। ফলে আমাদানিতে যে ১৫২ শতাংশের মতো শুল্ক দিতে হয় তা না দিয়ে ৪০ শতাংশের কম শুল্ক দিয়ে দেশেই মোটর সাইকেলটি উৎপাদন করতে পারছে। এই সুযোগ নিতেই রয়ের এনফিল্ড বাংলাদেশে তৈরির জন্য কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে দেশীয় প্রযুক্তিতে প্লান্ট স্থাপন করা হয়। সেখানেই এখন তৈরি হচ্ছে বিশ্ব মানের এই বাইক।
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ৭ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশে ৩৫০ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেলের অনুমতি দেয়। এরপর বাজাজ, হোন্ডা, ইয়ামাহা এবং রয়েল এনফিল্ড বাংলাদেশে হায়ার সিসির বাইক আনতে তোড়জোর শুরু করে। কিন্তু সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হায়ার সিসির বাইক এ দেশেই সংযোজন করতে হবে। এমনকি মোটরসাইকেলের বেশ কিছু যন্ত্রাংশ এ দেশেই তৈরি করতে হবে। সেই নিয়ম মেনেই রয়েল এনফিল্ড ইফাদ অটোসকে দায়িত্ব দিয়েছে বাংলাদেশে এই বাইক উৎপাদন, ইঞ্জিন সংযোজন এবং বাজারজাতকরণের।
এদিকে গত বছরের নভেম্বরে প্রথম উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন মোটরসাইকেল বাজাজ এন২৫০ বাজারে নিয়ে আসে বাজাজ মোটরসাইকেলের প্রস্তুতকারক ও পরিবেশক উত্তরা মোটরস। এ মডেলের মূল্য ছিল প্রায় ৩.৪ লাখ টাকা। চলতি বছরের জুনের শেষ নাগাদ কোম্পানিটি ৭৩০ ইউনিটের বেশি এন২৫০ বিক্রি করেছে। এরপর হিরো চলতি বছরের শুরুতে ২১০ সিসির কারিজমা এক্সএমআর বাজারে নিয়ে আসে। এর দাম রাখা হয় প্রায় ৪ লাখ টাকা। জুনের শেষ নাগাদ এ মডেলের প্রায় ৭০০ ইউনিট মোটরসাইকেল বিক্রি হয়েছে। অন্যদিকে হোন্ডা সম্প্রতি ১৮০ সিসির হর্নেট বাজারে নিয়ে এসেছে, যার দাম রাখা হয়েছে প্রায় ২.৯ লাখ টাকা।







